Call Us: +8801711977642  |  Email: dr.md.horkhan@gmail.com

কটি’র জোড়ায় ব্যথা ও নিরাময়

কটি’র জোড়ায় ব্যথা ও নিরাময়:

কটি’র বিভিন্ন রোগ ও আঘাতের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে ব্যথা অন্যতম। ব্যথা কখনো একাকি আবার কখনো অন্যান্য উপসর্গসহ প্রতীয়মান হয়। কটি’র জোড়ায় নীজস্ব ব্যথা ছাড়াও কোমড় ও হাঁটুর রোগের কারণে কটিতে বা হিপ জয়েন্টে ব্যথা হয়। এ ধরনের ব্যথাকে রেফার্ড পেইন বলে। আবার কটি’র সমস্যা উরু ও হাঁটুতে ব্যথার উদ্রেক করে। কটিতে ব্যথার প্রধান কারন হলো আর্থ্রাইটিস। প্রাপ্ত বয়স্কদের সাধারনত রিউমাটয়েড ও অসটিওআর্থ্রাইটিস , শিশু কিশোরদের জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস, ট্রমাটিক ও ইরিটাবল সাইনোভাইটিস হয় এবং টিবি আর্থ্রাইটিস সব বয়সেই হয়। জয়েন্ট ইনফেকশন ও খাদ্য নালীর দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশননের কারনে কটিতে যথাক্রমে সেপ্টিক ও রিএকটিভ আর্থ্রাইটিস হয়। কটি’র বাহির পার্শ্বে বার্সার ও পেশীর প্রদাহের কারনে প্রায়ই ব্যথা হয়ে থাকে। যে কোন কারনে কটি’র হাড়ে (ফিমোরাল হেড) রক্ত প্রবাহ কমে গেলে হাড়ের কোষগুলি মরে (ওসটিওনেকরোসিস) যায় এবং ফিমোরাল হেড বিকৃত সহ তীব্র ব্যথার উদ্রেক করে। অনেক সময় হিপের বাহির পার্শ্বে আই টি বি ও সামনে ফ্লেক্সর পেশীর প্রদাহ এবং ভিতরে তরুণাস্থি ও ল্যাবরাম (জোড়ার আবরণ) ছিড়ে স্নেপিং অনুভূতি সহ ব্যথা সৃষ্টি করে। এ ছাড়াও পেশীর স্ট্রেইন ও খিচুনি, হাড় ভাঙা, জোড়া স্থানচ্যুতি এবং স্ট্রেস ফ্র্যাকচার হলে জোড়ায় তৎক্ষণাৎ ব্যথা হয়। জোড়ার জন্মগত ত্রুটি ও লেগ – কালভি – পারথেস রোগের কারণে শিশু – কিশোরদের হিপে বিভিন্ন উপসর্গসহ ব্যথা হয়। এ ধরনের সমস্যায় জোড়া চিরস্থায়ীভাবে ধ্বংশ হয় এবং তাড়াতাড়ি আর্থ্রাইটিস হয়।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?

১. হাটতে অসুবিধা।
২. কটি’র জোড়ার অস্বাভাবিক আকৃতি।
৩. জোড়ায় রাতে বা বিশ্রাম অবস্থায় ব্যথা হলে।
৪. কিছুদিনের মধ্যে ব্যথা নিরাময় না হলে।
৫. কটি বা হিপ ভাঁজ করতে অসুবিধা হলে।
৬. জোড়া বা উরু ফুলে গেলে।
৭. জ্বর হলে বা হিপ গরম ও লাল হলে।
৮. জোড়া ক্রমান্বয়ে জমে গেলে।
৯. টয়লেটে বসতে উঠতে এবং সিঁড়ি দিয়ে উঠা নামা করতে অসুবিধা।
১০. অন্য কোন অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে।

নিরাময়ঃ

কটি’র জোড়ার চিকিৎসা যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি শুরু করতে হবে এবং যথোপযুক্ত নিরাময় নির্ভর করে জোড়া ব্যথার কারণসমূহ এবং এর তীব্রতার উপর। সঠিক মেডিকেল বা কনজারভেটিভ চিকিৎসায় অধিকাংশ রোগ ভালো হয়। সঠিক রোগ নির্ণয় করতে রোগের ইতিহাস শুনতে হবে। ভালোভাবে শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সাহায্য নিতে হবে। যেমন আর্থ্রোসিনটোসিস করে জয়েন্ট ফ্লুইড পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, জোড়ার এক্স – রে, বোন স্ক্যান, সিটি স্ক্যান এবং এম আর আই। যে কোন কারনেই ব্যথা হোক না কেন জোড়াকে বিশ্রামে রাখতে হবে। স্প্লিন্ট বা জয়েন্ট সাপোর্ট দিয়ে জোড়াকে বিশ্রামে রাখলে ব্যথা কম হবে। জোড়ায় ইনজুরি হলে প্রতি ঘন্টায় দশ থেকে পনের মিনিট করে বরফের বা ঠান্ডা পানির সেঁক দিলে ব্যথা কমে আসবে। আর্থ্রাইটিস ও জীবাণু সংক্রমনের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানির সেঁক (মোয়েস্ট হিট) খুবই উপকারী। ব্যথা নিরাময়ের জন্য বেদনা নাশক ও জীবাণু সংক্রমনের জন্য এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করতে হবে। আর্থ্রাইটিসে স্বল্পসময়ের জন্য স্টেরয়েড সেবন করলে দ্রুত ব্যথা কমে আসে। আর্থ্রাসিনটোসিস করে জয়েন্ট ফ্লুইড বের করে স্টেরয়েড এবং কখনো কখনো হায়ালুরোনিক এসিড ইনজেকশন জোড়ায় পুশ করলে উপসর্গ দ্রুত লাঘব হবে। কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে কটি’তে টানা ও ব্রেচ বা প্লাস্টার দিতে হয়। জোড়ার স্বাভাবিক নড়াচড়া ও পেশী শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে। কখনো কখনো ফিজিক্যাল থেরাপি যেমন এস ডব্লিউ ডি, আই আর আর, ই এম এস ও ইউ এস টি উপসর্গ নিরাময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেল বা কনজারভেটিভ চিকিৎসায় ভালো না হলে সার্জিকেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সার্জিকেল চিকিৎসার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জোড়া বিসংকোচন, ওসটিওটমি, জয়েন্ট ফিউশন ও জোড়া পুনঃস্থাপন।

——————————————————

ডা. মো: হারুন অর রশিদ খান
সহকারী অধ্যাপক
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)
চেম্বারঃকেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
সিরিয়ালের জন্যঃ ০১৭১১৯৭৭৬৪২ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.